তালতলীতে শিক্ষকের স্ত্রী পেলেন ভিজিডি কার্ড | আপন নিউজ

শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
আমতলীতে ১৮ ভোট কেন্দ্র ঝুকিপুর্ণ বরগুনা-১ আসনে পোষ্টার ছাড়া নির্বাচন পাঁচবার সাংসদ হয়েও বরগুনার উন্নয়ন হয়নি”- আমতলীতে নজরুল ইসলাম মোল্লা কলাপাড়ায় দুই রাখাইন পল্লীতে অভিযা’ন, ১০০ লিটার চো’লা’ই ম’দ ধ্বংস প্রবাহমান খাল বন্দোবস্থ বাতিলের দাবিতে আমতলীতে বি’ক্ষো’ভ পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা-দশমিনায় প্রচারণায় এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন দেশি-বিদেশি শক্তি নির্বাচন বানচাল করতে চায়: সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুর আমতলীতে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ছিটকে পড়ে শ্রমিক নি’হ’ত কলাপাড়ায় অ’বৈ’ধ বালু উত্তোলন: ৫০ হাজার টাকা জ’রি’মা’না, কা’রা’দণ্ডের আদেশ কলাপাড়ায় ই’য়া’বা বিক্রির দায়ে দুই যুবকের কা’রা:দ’ণ্ড
তালতলীতে শিক্ষকের স্ত্রী পেলেন ভিজিডি কার্ড

তালতলীতে শিক্ষকের স্ত্রী পেলেন ভিজিডি কার্ড

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার মেনিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহনেওয়াজ সেলিমের স্ত্রী সালমা বেগমের নামে দুস্থদের ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সচ্ছল এই পরিবার প্রতি মাসে ভিজিডির ৩০ কেজি করে চাল তুলে নিচ্ছে। আর এতে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় ও দুস্থরা। হতদরিদ্র-দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিডি কার্ড বিতরণে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে বড়বগী ইউনিয়নে।

জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ নেওয়াজ সেলিম। তিনি মেনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার স্ত্রী সালমা বেগমের নামে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ভিজিডি কার্ড হয়েছে। তিনি এই ভিজিডি চালও তুলে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তালুকদারপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র সোলায়মানের স্ত্রী খাদিজা বেগম বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন তার পরিবার হতদরিদ্র-দুস্থ। তার তিনটি সন্তান ও আয়-রোজগার করার কোনো মাধ্যম নেই। তার নামে ভিজিডি নেই। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীরা ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চূড়ান্ত তালিকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়া গ্রামে ৪২ নম্বর সিরিয়ালে ভিজিডির কার্ডধারী সালমা বেগমের নামে একটি ভিজিডি কার্ড রয়েছে। তার নামে ২০২৩-২৪ সালের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ইস্যুকৃত কার্ডে ভিজিডির চাল পাচ্ছেন তিনি। সালমা বেগমের পরিবার বেশ সচ্ছল। স্বামী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

সালমা বেগমের স্বামী শাহ নেওয়াজ সেলিম বলেন, আমি সরকারি চাকুরীজীবী এটা সঠিক। আমার স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড আছে এটাও সঠিক। আমাদের ভিজিডি তালিকায় নাম দিয়েছে চেয়ারম্যান।
বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এমরান হোসাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঐ কার্ড বাতিলের জন্য রেজুলেশন করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তার ইউনিয়ন পরিষদ ভিজিডি কার্ড নম্বর ১৩৫।

এবিষয়ে বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন (আলম মুন্সী) বলেন, এই ভিজিডি নামের তালিকা উপজেলা চেয়ারম্যান দিয়েছেন। আপনারা তার সাথে যোগাযোগ করেন।

তালতলী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপ কুমার পাল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া অভিযোগ পাওয়ার পরে ঐ শিক্ষকের স্ত্রীর নামের ভিজিডির কার্ডটি বাতিল করার প্রক্রিয়া চলছে। ঐ কার্ডটি বাতিল করে নতুন কারও নামে কার্ড তৈরি করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, এ কার্ডসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো স্বজনপ্রীতি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন, ভিজিডি কার্ডের নামের তালিকা দেওয়ার সময় ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী সুপারিশ করা হয়েছে। ভোটার আইডি কার্ডে স্বামীর নাম থাকে না। এজন্য এই ভুল গুলো হয়। তিনি আরও বলেন পরিচয় গোপন করে এমন কিছু হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!