শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ব্লেড দিয়ে মাথা কেটে হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মরানিদ্রা এলাকায় জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার নাসিরের সঙ্গে বাদলের সাথে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধী জমিতে গত ২৭ এপ্রিল বিকালে বাদল মাটি কাটছিলো এতে নাসির বাধা দেয়ে। এতে উল্টো নাসির কে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে নাসির বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল খান ও এমাদুলকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষ কে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেন। দুই পক্ষই সমাধানে বসার জন্য আগ্রহী হয়।ঘটনাস্হলে এমাদুল যাওয়ায় তাকে নিয়ে বাদল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কটুক্তি মূলক কথা লেখে । এ বিষয়টি নিয়ে এমাদুল ও বাদলের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে দুই পক্ষকে সরে যেতে বলে ও থানায় অভিযোগ দিতে বলেন।ঘটনাস্হলে কোন ধরনের মারধর হয়নি। কিন্ত ঘটনার পরের দিন শুক্রবার বাদল ব্লেড দিয়ে মাথা কেটে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ করেন এমাদুল। বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী চান মিয়া বলেন, ঘটনার পরে আমার সাথে দেখা হয় বাদলের। তখন বাদল সম্পূর্ণ সুস্থ ও গায়ে কোন কাঁটা ছেড়ার দাগ ছিল না। ঘটনার পরের দিন শুক্রবার নাকি সে বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আল্লাহ জানে কিভাবে মাথা ফাটলো।
প্রত্যক্ষদর্শী হানিফ খান, ফিরোজা বেগম ও খলিলুর রহমানসহ একাধিক স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় বাদলের গায়ে কোন আঘাত লাগেনি। তবে মারধর তেমন হয়নি দুই পক্ষের হাতাহাতি হয়েছে। মারধরের পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখে বাদল সম্পূর্ণ সুস্থ। পুলিশের সাথে কথাও বলেছে। তবে ঘটনা বৃহস্পিতবার ঘটেছে কিন্তু বাদল ব্লেড দিয়ে মাথা কেটে শুক্রবারে বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে । প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই ব্লেড দিয়ে মাথা কাটার নাটক করেছে বাদল।
এ বিষয়ে এমাদুল বলেন, আমাকে নাসির ডেকে নিয়েছে তার জমি থেকে বাদল মাটি কাটে। আমি যাওয়ার পর আমাকে বাদল কুটুক্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে গালিগালাজ করেছে। তখন ফেসবুকে দেখে আমার ছেলেরা তাকে জিজ্ঞেস করতে গেলে উল্টো তারা আমার ছেলেদের ওপর হামলা করেন। আমাদের ফাসাতে বাদল নিজের মাথা নিজে কেটে বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ইউপি সদস্য জামাল খান বলেন,ঘটনার পরে আমি ঘটনাস্থলে আসি। তখন আমি মাথা ফাটা বা কাঁটা দেখিনি কারও বিরুদ্ধে আমি মিথ্যা বলতে পারব না।
এ বিষয়ে বাদলের মুঠোফোনে (০১৭৩২৩২০৩৬৬) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply