রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের তির বছরের শিশু আরাফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বাবা আব্দুল ফকির ও মাতা আখি বেগম পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। বাবার অভিযোগ চাচাতে ভাই মিজানুর রহমানের মারধরে মারা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
জানাগেছে, উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের আব্দুল ফকিরের স্ত্রী আখি বেগম ছয় মাস বয়সি আরাফাতকে রেখে জর্ডান যান। দুই বছর পরে গত বছর নভেম্বর মাসে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে এসে আবারো জর্ডান যেতে চায় আখি। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়ায় তিন বছরের শিশুপুত্র আরাফাত। গত ছয় মাসে আরাফাতকে মা আখি বেগম কয়েক দফায় মারধর করেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী জেসমিন, মিজানুর হাওলদার, ফিরোজ মিয়া ও খাদিজা বেগম। এ বছর জানুয়ারী মাসে শিশু আরাফাতকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় কিন্তু প্রতিবেশী খাদিজা আক্তার দেখে ফেলায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গত সোমবার শিশু আরাফাতকে বেধরক মারধর করে মা আখি বেগম এমন অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শী জেসমিনের। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। মঙ্গলবার শিশুটিকে বাবা আব্দুল ফকির আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সুমন খন্দকার শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে। ওই হাসপাতালে নেয়ার পথে মঙ্গলবার রাতে শিশুটি মারা যায়। শিশুটির মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে বলে ধারনা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে। বুধবার সকালে শিশুটির মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পিতা ও মাতা পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করেছে। শিশুর পিতার অভিযোগ প্রতিবেশী মিজানুর রহমান হাওলাদার শিশুটিকে মারধর করেছে। এতে মারা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী খাদিজা বেগম ও জেসমিন বলেন, শিশু আরাফাতের মা আখি বেগম দেশে আসার পর থেকেই শিশুটিকে মারধর করে আসছে। গত জানুয়ারী মাসে শিশুটিকে প্রচন্ড শীতের মধ্যে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় কিন্তু আমরা দেখে ফেলায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এইবার তিনি সফল হয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবী করছেন তারা।
মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, পরিকল্পিকভাবে ছেলেকে হত্যা করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, প্রায়ই শিশু আরাফাতকে তার বাবা ও মা মারধর করতো। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুমন খন্দকার বলেন, শিশুটির গলায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। শিশুটির মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আমতলী থানার ওসি একে এম মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটির মৃত্যু নিয়ে নানাবিধ গুঞ্জন থাকায় ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply