শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধি: ছয় দিনেও আমতলী উপজেলার ৬ হাজার ৭৮৯ জেলে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসুচীর চাল পায়নি। চাল না পেয়ে অতি কষ্টে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার না থাকায় চালের বরাদ্দ ছাড় করতে পারছে না জনপ্রতিনিধিরা। ফলে তারা জেলেদের চাল বিতরন করতে পারছেন না।
জানাগেছে, মা ইলিশ রক্ষায় গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বিপনন বন্ধ করেছে সরকার। জেলেদের নিরাপদ জীবন যাপনে ওই ২২ দিনের জন্য ২৫ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইলিশ শিকার বন্ধের ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও বুধবার পর্যন্ত আমতলী উপজেলার ৬ হাজার ৭৮৯ জেলে চাল পায়নি। চাল না পেয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার না থাকায় জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল ছাড় করতে পারছে না জনপ্রতিনিধিরা। ফলে ৬ দিনেও জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা সম্ভব হয়নি।
জেলে শহীদ বিশ্বাস বলেন, অবরোধের কারনে ছয়দিন ধরে নদীতে নামতে পারছি না। ঘরে খাবার নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ কষ্টে আছি। দ্রুত চাল দেয়ার দাবী জানান তিনি।
জেলে হাবিব ফকির বলেন, মোগো কষ্ট দ্যাহার কেউ নাই। হারা বচ্চর গাঙ্গে মাছ আলহে না। এ্যাহন দিছে অবরোধ। ঘরে চাউল নাই। গুরাগারা লইয়্যা কষ্ট হরি। সরহার চাউল দেছে হ্যা ছয় দিনেও পাই নাই। হহালে চাউল দেওয়ার দাবী হরি।
কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বোরহান উদ্দিন মাসুম তালুকদার বলেন, জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল বিতরনের অনুপতি পাইনি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সরদার বলেন, সরকার চাল বরাদ্দ দিয়েছে কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসলেই চাল বিতরন কার্যক্রম শুরু করবো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসাইন বলেন, চালের ডিউতে ইউএনও’র স্যার স্বাক্ষর না করায় চাল বিতরন করতে পারছি না। স্বাক্ষর করলেই চাল বিতরনের কার্যক্রম শুরু করবো।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এসএম সাদিক তানভির বলেন, খবর নিয়ে দ্রুত জেলেদের চাল বিতরনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply