রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

কান্তার লাশ বস্তায় ভরে কুয়াকাটায় সাগরে ভাসিয়ে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ

কান্তার লাশ বস্তায় ভরে কুয়াকাটায় সাগরে ভাসিয়ে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ

অনলাইন ডেস্কঃ

ঢাকার আশুলিয়ায় কান্তা বিউটি পার্লারের মালিক মার্জিয়া কান্তাকে (২৬) তার স্বামী কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল কক্ষে গলাটিপে হত্যা করে। আর পুলিশি ঝামেলা এড়াতে কান্তার লাশ বস্তায় ভরে সাগরে ভাসিয়ে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।

কান্তা হত্যার প্রায় দুই বছর পর পিবিআইয়ের তদন্তে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্বামী ও তার এক সহযোগী কান্তাকে নিয়ে ওই হোটেলে পর্যটক হিসেবে ওঠার পর কোন এক সময় তাকে হত্যা করে পলিথিনে লাশ মুড়িয়ে খাটের নিচে রেখে দুই খুনি পালিয়ে যায়। এরপর হোটেল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা ঝামেলা এড়াতে রাতের অন্ধকারে কান্তার লাশ বস্তায় ভরে মোটর সাইকেলের পেছনে তুলে নিয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এভাবে ঘটনাটি আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের ধামাচাপা দেবার অপচেষ্টা এবং খুনিরা এতদিন ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকলেও পিবিআইয়ের তদন্তে বিস্তারিত বেরিয়ে এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদী জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান জানান, বেলাবো থানার নরসিংদী জেলার সোহরাব হোসেন রতনের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার কান্তা ঢাকার আশুলিয়ায় বিউটি পার্লারের ব্যবসা করতেন। সেখানে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীর শহিদুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে দুই লাখ টাকার কাবিননামায় তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের কিছুদিন পর মার্জিয়া কান্তা জানতে পারেন তার স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরের আরও এক স্ত্রী রয়েছে। বিষয়টি গোপন করে তাকে বিয়ে করায় সহজে মেনে নিতে পারছিলেন না কান্তা। এ নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরকে প্রতারক লম্পট হিসেবে তুলে ধরাই কাল হয় কান্তার জীবনে।

এ ঘটনায় কৌশলের আশ্রয় নেন স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগর। ভালবাসার অভিনয় করে ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাবার কথা বলে দ্বিতীয় স্ত্রী মার্জিয়া কান্তার মন জয়ের চেষ্টা করে সফলও হন স্বামী সাগর।

এরপর ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে স্বামী-স্ত্রী প্রথমে শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল নূর ইন্টারন্যাশনালে এসে রাত কাটান। সেখানে স্বামী শহিদুলের মামাতো ভাই মামুন এসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরদিন তারা শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে এসে আবাসিক হোটেল আল-মদিনার বি-১ নং কক্ষে ওঠেন। কোনো এক সময় কান্তাকে গলা টিপে হত্যা করে পলিথিনে লাশ মুড়িয়ে খাটের নিচে রেখে তারা দুজন পালিয়ে যান।

২৩ সেপ্টেম্বর বিকালে ওই হোটেলকক্ষে তালা ঝুলতে দেখে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে মহিপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে কান্তার ব্যবহৃত জামাকাপড় জব্দ করে নিয়ে গেলেও খাটের নিচে লাশ থাকার বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি।

এর দু’দিন পর ওই কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে হোটেল ম্যানেজার আমির এবং হোটেল বয় সাইফুলের নজরে লাশটি এলে তারা হোটেল মালিক দেলোয়ারকে জানান। এরপর দেলোয়ার, তার ছোট ভাই আনোয়ার, ম্যানেজার আমির ও বয় সাইফুল চারজনে মিলে হত্যার আলামত নষ্ট করে লাশ গুমের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ঘটনার প্রায় একবছর পর নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরসহ তার পরিবারের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মার্জিয়া কান্তার বাবা সোহরাব হোসেন রতন বাদী হয়ে গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ হত্যা করে লাশ গুমের মামলা দায়ের করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত এগারটার দিকে বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলের পেছনে তুলে দেলোয়ার ও আনোয়ার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুচর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গলা সমান সাগরের পানিতে নেমে লাশ ভাসিয়ে দিয়ে দুইভাই হোটেলে ফিরে আসেন। এরপর তারা এ বিষয়টি নিয়ে আর কোথাও মুখ খোলেনি।

সূত্র: যুগান্তর

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 aponnewsbd
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!